...মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে নতুনরূপে আসছে...

This is a Digital Library working with the 'collection, maintenance and public viewing' of the historical documents regarding the Liberation War of Bangladesh and Genocide of Innocent Bengali People in 1971. More than three million Bengalis were killed and half a million Bengali women were raped by Pakistan Military Forces, Biharis, Jamat-I-Islami, Islami Chatra Shangha (Now Islam-I-Chatra Shibir), Muslim League, Nezam-I-Islami Party, Razakars, Al-Shams, Al-Badr, Peace Committee, Muzahid Bahini during the nine months long Liberation War of Bangladesh in 1971.

This archive is absolutely NON-COMMERCIAL. All contents available here are for learning, study & research purpose only. Contents available here CANNOT be used for any kind of commercial purpose.

ফেসবুকে আমরা

পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন- ডঃ এম এ হাসান

পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন

ডঃ এম এ হাসান

সময় প্রকাশন

১৯৭১ সনের ২৫ মার্চ ঘুমন্ত বাঙালি জাতির উপর অকস্মাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী যে যুদ্ধ শুরু করে  তা কোন অভ্যন্তরীণ সংঘাত, নাগরিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ দমন বা দাঙ্গা ছিল না। এটা কোন বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহ দমনও ছিল না। এটা ছিল একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা এবং একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করবার নিষ্ঠুরতম প্রক্রিয়া।  বেপরোয়া হত্যা, গণধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ এবং অন্যায়ভাবে নিরপরাধ মানুষকে বন্দী করে পাকিস্তানি শাসকেরা অন্যতম বৃহৎ একটি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকর্ম সম্পন্ন করে। এরপর তারা প্রতারণামূলকভাবে একটি জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধকে বিদ্রোহ বলে অভিহিত করে তাদের সীমাহীন অপরাধগুলোকে লঘু করার চেষ্টা করে।  শুধু তাই নয়, তারা ১৯৭১-এর পর এমনভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় যাতে এ দেশের মাটিতে সংঘটিত এই নৃশংস গণহত্যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত না হয়। গণহত্যাকে অস্বীকার করার প্রবণতাটি নতুন কিছু নয়। এ কারণেই উন্নত বিশ্ব অধুনা গণহত্যা অস্বীকার করার বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করছে। প্রকৃত সত্য হলো এই, পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ৭১-এর ন’মাসে এক কোটিরও বেশি বাঙালিকে ঘর ছাড়া করে। এসময়ে তারা নির্বিচার হত্যা ও পরিকল্পিত গণহত্যার মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে নির্মূল করবার নিষ্ঠুর প্রক্রিয়া চালায়। বিশেষ করে এ দেশের তরুণ ও বু্দ্ধিজীবি শ্রেণীকে নিশ্চিহ্ন করবার জন্য তারা তাদের তাঁবেদার বাহিনীকে ব্যবহার করে এ সময়। তারা দেশের তরুণদের জন্য এমন জীবননাশী অবস্থা সৃষ্টি করে, যাতে তারা সম্পূর্ণ বা আংশিক নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এটা করতে গিয়ে তারা হত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগ, বন্দীদের উপর অত্যাচার, নিষ্ঠুর নির্যাতনসহ শিশু হত্যার মতো বীভৎস ও পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এভাবে দেশের প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন কোন না কোনভাবে নিষ্পেষিত হয়েছে নিষ্ঠুর পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের দ্বারা। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির চলতি গবেষণা অনুযায়ী পাকি হানাদার ও তাদের দোসররা ১৯৭১ সালে দেশে যে ব্যাপক গণহত্যা ও নারী নির্যাতন চালায়, তাতে প্রায় সাড়ে বারো লাখ লোক নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এসব হত্যাকাণ্ডের বিজ্ঞানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে, এর বাইরে আরও হিসাব রয়েছে। 
পরিসংখ্যান রয়েছে চার লাখ ষাট হাজার নারী নির্যাতনের বিষয়ে। এ যাবত ৯২০টি গণহত্যা ও গণকবর আবষ্কিৃত হলওে মোট গণকবরের সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ৮৮টি নদীর তট ও ৬৫টি ব্রিজের উপর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা সংঘটিত নিয়মিত হত্যাযজ্ঞের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এইসব হত্যা, ধর্ষণ, ও বীভৎস নির্যাতনে পাকি দোসররা নিয়মিতভাবে সহায়তা করলেও পাকিস্তানি বাহিনী নিজেরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্ত হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নিষ্ঠুর নির্যাতনসহ গণহত্যায় অংশ নেয়। ভুক্তভোগী মানুষ, ধর্ষিতা নারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা পাকিস্তানি সেনাদের নামও উল্লেখ করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি ২৮৭ জন যুদ্ধাপরাধীকে শনাক্ত করেছে। এরমধ্যে ১৯১ জন বড় মাপের যুদ্ধাপরাধী। এই গ্রন্থটি ১৯১ জন যুদ্ধাপরাধীর অপরাধ কর্মেরই দলিল। তারপরও কথা আছে। এই দলিলে যে তাদের সবটুকু অপরাধের কথা বর্ণিত হয়েছে তা নয়। তাদের সবার কথা উঠে এসেছে এটাও নয়। বড় মাপের অনেক অপরাধীর অনেক কথা এখনও না বলা রয়ে গেছে। সে হিসাবে এই গ্রন্থটি ৭১-এ এদেশের মাটিতে ঘটে যাওয়া সীমাহীন অপরাধসমূহের এক খন্ডতি অংশের নখদর্পণ।  



বইটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন






.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্ট