...মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে নতুনরূপে আসছে...

This is a Digital Library working with the 'collection, maintenance and public viewing' of the historical documents regarding the Liberation War of Bangladesh and Genocide of Innocent Bengali People in 1971. More than three million Bengalis were killed and half a million Bengali women were raped by Pakistan Military Forces, Biharis, Jamat-I-Islami, Islami Chatra Shangha (Now Islam-I-Chatra Shibir), Muslim League, Nezam-I-Islami Party, Razakars, Al-Shams, Al-Badr, Peace Committee, Muzahid Bahini during the nine months long Liberation War of Bangladesh in 1971.

This archive is absolutely NON-COMMERCIAL. All contents available here are for learning, study & research purpose only. Contents available here CANNOT be used for any kind of commercial purpose.

ফেসবুকে আমরা

জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা- মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া

জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা

মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া

র‌্যামন পাবলিশার্স


আপাতদৃষ্টে দুর্ভাগ্য মনে হলেও আদতে জনযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারা যেকোনো জাতির জন্য এক পরম সৌভাগ্যের ঘটনা। জনযুদ্ধ সংঘটনের সময়ে আপামর জনগণকে নিদারুণ কষ্ট ভোগ করে এবং অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। একাত্তরে যে জনযুদ্ধ বাঙালি জাতি করেছে, তা অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদি হলেও এটাই ছিল প্রকৃত জনযুদ্ধের বৈশিষ্ট্যে পূর্ণ। আমাদের সর্বস্তরের মানুষ একই সমতটে এসে জড়ো হয়েছিল একই ঈপ্সিত লক্ষ্যে। জনযুদ্ধের যোদ্ধাদের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়—নাগরিক যোদ্ধা, অনিয়মিত সৈনিক, গেরিলা যোদ্ধা। এরা সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে আসা সাধারণ মানুষ, নিয়মিত বা প্রচলিত সৈনিক নয়। আমরা তাদেরকে বলি গণযোদ্ধা। এরা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র, নৌকার মাঝি, গেরস্ত ঘরের কামলা, ট্রাক ড্রাইভার, মোটরসাইকেল মেকানিক, কদাচিৎ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এদের বেশির ভাগই জানত, দেশ স্বাধীন হলে এরা কেউ সেনাবাহিনীতে জেনারেল, সরকারের সচিব বা কোটিপতি ব্যবসায়ী হতে পারবে না। এদের তখন যেমন বছরের খোরাক জুটতো না দেশ স্বাধীন হলেও জুটবে না। এরা যুদ্ধে শহীদ হলেও এদের সন্তানদের গৃহস্থের দয়া আর দাক্ষিণেই থাকতে হবে। এই অতি সাধারণরাই অসাধারণ গুণাবলি প্রদর্শন করেছে। কলমের কাজ অস্ত্র দিয়ে হয় না, তেমনি তার উল্টোটাও সত্য।




বইটি সম্পর্কে রকমারি.কম-এ জনৈক মুতাসিম উদ্দিনের রিভিউ-

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের অসাধারণ কিন্তু অলিখিত রক্তঝরা বীরত্বগাঁথা তুলে আনার অনন্য প্রয়াস।

১৯৭১ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক রক্তঝরা সময়। এই সময় পাকিস্তানী বাহিনীর অত্যাচার, অবিচার, লুণ্ঠন, হত্যা, ধর্ষণের বিরুদ্ধে এদেশের সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষেরা অসীম সাহসিকতার সাথে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল জাতির বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার লাল সূর্য, পতপত করে উড়তে থাকা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। আর এই স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামের সবচেয়ে অগ্রভাগে যারা ছিল, সেই কৃষক, শ্রমিক, মজুরদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাসে খুব কমই লেখা হয়েছে। তারা এক্ষেত্রেও বরাবরের মতই বঞ্চিত থেকে গেছে। মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়ার লেখা ‘জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা’ সেই সব অলিখিত সাহসী মুক্তিযোদ্ধার রক্তের ঋণ স্বীকার করার এক প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা। মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া নিজে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের গল্প সব সময়ই তাঁর কলমে অনবদ্য ভাষা পেয়েছে। এই বইয়ে তিনি ১১টি বীরত্বগাঁথা সংকলিত করেছেন। মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়ার লেখার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, তিনি যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন টেকনিক্যাল টার্ম বইয়ে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যাসহ ব্যবহার করেছেন। এছাড়া তিনি গল্পের ফাঁকে ফাঁকে পাঠকদের যুদ্ধের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কেও বলেছেন। প্রয়োজনে বিভিন্ন দলিলও সংযুক্ত করেছেন। যা বইটিকে তথ্যবহুল করে তুলেছে। আর বাংলার মাঠ-ঘাট থেকে উঠে আসা একদম সাধারণ কিন্তু খুবই অসাধারণ কাহিনীগুলো পাঠকের হৃদয়কে ছুঁয়ে না গিয়ে পারেই না। মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া নিজে একজন গণযোদ্ধা ছিলেন। তাই ‘জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা’ বইয়ে তিনি অপার মমতা, অপরিসীম শ্রদ্ধা আর বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আখ্যান রচনা করেছেন। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ব্যাপারে আগ্রহী তাদের জন্যে এই অসাধারণ বইটি অবশ্যপাঠ্য।


.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্ট