...মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে নতুনরূপে আসছে...

This is a Digital Library working with the 'collection, maintenance and public viewing' of the historical documents regarding the Liberation War of Bangladesh and Genocide of Innocent Bengali People in 1971. More than three million Bengalis were killed and half a million Bengali women were raped by Pakistan Military Forces, Biharis, Jamat-I-Islami, Islami Chatra Shangha (Now Islam-I-Chatra Shibir), Muslim League, Nezam-I-Islami Party, Razakars, Al-Shams, Al-Badr, Peace Committee, Muzahid Bahini during the nine months long Liberation War of Bangladesh in 1971.

This archive is absolutely NON-COMMERCIAL. All contents available here are for learning, study & research purpose only. Contents available here CANNOT be used for any kind of commercial purpose.

ফেসবুকে আমরা

জাতীয় সঙ্গীত: আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি

এটা দু:খজনক সত্য যে, আমরা অনেকেই আমাদের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা" ঠিকভাবে গাইতে পারি না।

"আমার সোনার বাংলা" গাইবার বেশ কয়েকটি ঢঙ প্রচলিত আছে।

এর মাঝে এখানে দুটি ঢঙের ডাউনলোড লিংক দেয়া হলো-

০১. জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে "আমার সোনার বাংলা" গাইবার ঢঙ।

০২. রবীন্দ্রসঙ্গীত হিসেবে "আমার সোনার বাংলা" গাইবার ঢঙ।
_________________________________________________________________

বোনাস হিসেবে "আমার সোনার বাংলা" গানটির পিছনের কিছু কথা দেয়া হলো-




• ১৮৮৯ থেকে ১৯০১ পর্যন্ত বারো বছর পূর্ববঙ্গের শিলাইদহ ও শাহজাদপুরে জমিদারীর কাজে থাকাকালীন সময়ে "আমার সোনার বাংলা" কবিতাটি লিখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• ১৯০৫ সালের সঞ্জীবনী পত্রিকায় ও বঙ্গদর্শন পত্রিকায় গানটি প্রকাশিত হয়।

• ১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আদর্শগত চেতনা হতে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গান হিসেবে কবিতাটি ব্যবহার করেন। কুষ্টিয়ার বাউল শিল্পী গগন হরকরার (বাউল গগনচন্দ্র দাস) “আমি কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে” গানের সুরের অনুকরণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গানটির সুর করেন। সরলা দেবী চৌধুরানী ১৯০০ সালে তাঁর 'শতগান সংকলনে' গগন হরকরা রচিত গানটির স্বরলিপি প্রকাশ করেছিলেন।

গগন হরকরার সেই গান :

আমি কোথায় পাব তারে,
আমার মনের মানুষ যে রে।
হায়ারে সেই মানুষে তার উদ্দেশ্য
দেশ বিদেশে বেড়াই ঘুরে।
লাগি এই হৃদয় শশী
সদা প্রাণ হয় উদাসী,
পেলে মন হত খুশী,
দেখতাম নয়ন ভরে।।
আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে,
নিভাই অনল কেমন করে,
মরি, হায়, হায়, হারায়ে
ও তার বিচ্ছেদে প্রাণ
কেমন করে দেখনা তোরা হৃদয় চিরে।
দিব তার তুলনা কি
যার প্রেমে জগৎ খুশী,
হেরিলে জুড়ায় আঁখি,
সামান্যে কি দেখতে পারে তারে?
যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে,
ও সে না জানি কুহক জানে
অলক্ষে মন চুরি করে
কুলমান সব গেলরে
তবু না পেলাম তারে
বসত্ কোথায় না জেনে ভাই
গগন মরে,
না জেনে ভাই গগন কেঁদে মরে,
আমার মনের মানুষ যে রে।

• ১৯০৫ সালের ০৭ আগস্ট কলকাতায় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী একটি সমাবেশে প্রথম গানটি গাওয়া হয়।

• শিল্পী গোপালচন্দ্র সেনের কন্ঠে গানটি প্রথম রেকর্ড করা হয়।

• গানটি গীতবিতান গ্রন্থের স্বদেশ অংশের অর্ন্তভুক্ত।

• পরিচালক জহির রায়হান তাঁর নির্মিত “জীবন থেকে নেয়া”(১৯৭০) চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহার করেন।

• ১৯৭১ সালের ০৩ মার্চ পল্টন ময়দানে “স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদ” তাদের ইশতিহারে গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করে।

• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে গঠিত বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়া হয়।

• ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সুরকার অজিত রায় গানটির বর্তমানে প্রচলিত যন্ত্রসুর করেন।

• ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারী বাংলাদেশ সরকার গানটির প্রথম দশ লাইন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে (মোট চরণ সংখ্যা পঁচিশটি)। যন্ত্রসঙ্গীতে ও সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা হয় প্রথম চারটি লাইন। একই বছর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে ব্যবহার করা “আমার সোনার বাংলা” গানটির স্বরলিপি বিশ্বভারতী সংগীতবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত করা হয়।

জাতীয় সঙ্গীতের দশ লাইন:

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে
ও মা, অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি।

সম্পূর্ণ গান (পঁচিশ চরণ) :

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে
ও মা, অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি।
তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিল রে,
তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি।
তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে,
মরি হায়, হায় রে
তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি।
ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে,
সারাদিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে,
তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে,
মরি হায়, হায় রে
ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, তোমার রাখাল তোমার চাষি।
ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে
দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে।
ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,
মরি হায়, হায় রে
আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ বলে গলার ফাঁসি।

• গানটি ইংরেজীতে অনুদিত করেন অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান।

ইংরেজী অনুবাদ :

My Bengal of gold, I love you
Forever your skies, your air set my heart in tune
as if it were a flute,
In Spring, Oh mother mine, the fragrance from
your mango-groves makes me wild with joy-
Ah, what a thrill!
In Autumn, Oh mother mine,
in the full-blossomed paddy fields,
I have seen spread all over - sweet smiles!
Ah, what a beauty, what shades, what an affection
and what a tenderness!
What a quilt have you spread at the feet of
banyan trees and along the banks of rivers!
Oh mother mine, words from your lips are like
Nectar to my ears!
Ah, what a thrill!
If sadness, Oh mother mine, casts a gloom on your face,
my eyes are filled with tears!

• ২০০৬ সালে বিবিসি'র শ্রোতা জরিপে 'আমার সোনার বাংলা' গানটিকে 'শ্রেষ্ঠ বাংলা গান' হিসেবে নির্বাচিত হয়।

• ২০০৬ সালে আইনজীবী কালিপদ মৃধা মোবাইলের রিং টোন এবং ওয়েলকাম টোন হিসেবে জাতীয় সংগীতের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংগীতকে মোবাইল ফোনে রিং টোন হিসেবে এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। আদালত গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংককে ৫০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছিলো।

• ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে অংশ নেয়া ২০৫ টি দেশের জাতীয় সঙ্গীতের তুলনামূলক বিচারে দৈনিক গার্ডিয়ান পত্রিকার মতেবাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত দ্বিতীয় হয়। উরুগুয়ের জাতীয় সংগীত প্রথম হয়।

কিছু দু:খের কথা:

• বাংলাদেশ স্বাধীন হলো আজ এত বছর কিন্তু এখনো সরকার কর্তৃক “আমার সোনার বাংলা”র কোন রেকর্ড বের হয়নি। যা হয়েছে সবই বেসরকারী উদ্যেগে; “শ্রোতার আসর” ১৯৭৯ সালে ও “আনন্দ ধারা” ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত সুরে “আমার সোনার বাংলা”র রেকর্ড প্রকাশ করে।

• একটা তথ্য শুনে অবাক হবেন। স্বাধীনতার পর, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে বাণীসহ প্রতিদিন বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত জাতীয় সঙ্গীতের সুরে “আমার সোনার বাংলা” গাওয়া হতো। ১৯৭৬ সাল হতে বাংলাদেশ টেলিভিশন বাণীসহ জাতীয় সংগীতের প্রচার বন্ধ করে দেয়। এর কিছুকাল পরে বাংলাদেশ বেতারও একই রাস্তায় হাঁটে। এখন তো শুধু যন্ত্রসঙ্গীত বাজানো হয়।

[ লিখেছেন: সবুজ পাহাড়ের রাজা ]


"আমার সোনার বাংলা"






.