ওয়েবসাইট সংস্কারের কাজ চলছে, তাই আর্কাইভ ব্যবহারে পাঠক-গবেষকদের কিছুটা বিড়ম্বনায় পরতে হতে পারে।

This is a Digital Library working with the 'collection, maintenance and public viewing' of the historical documents regarding the Bangladesh Liberation War, Genocide of Innocent Bengali People in 1971 and contemporary political events of Bangladesh.


More than three million Bengalis were killed and half a million Bengali women were raped by Pakistan Military Forces, Biharis, Jamat-I-Islami, Islami Chatra Shangha (Now Islam-I-Chatra Shibir), Muslim League, Nezam-I-Islami Party, Razakars, Al-Shams, Al-Badr, Peace Committee, Muzahid Bahini during the nine months long Liberation War of Bangladesh in 1971.




The Exeter South Asia Centre of the College of Humanities of the University of Exeter listed ‘Muktijuddho e-Archive’ as a source for Research materials.

The University of Exeter is a public research university located in Exeter, Devon, South West England, United Kingdom.
This archive is absolutely NON-COMMERCIAL. All contents available here are for learning, study & research purpose only. Contents available here CANNOT be used for any kind of commercial purpose.

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ যুদ্ধে নিহত ১০৪ - সাঈদুর রহমান রিমন

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ যুদ্ধে নিহত ১০৪

সাঈদুর রহমান রিমন

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। সারা দেশে কারফিউ আর সেনা তৎপরতার মুখে যখন টুঁ-শব্দটি করার উপায় ছিল না, তখন একদল দামাল যোদ্ধা অস্ত্র হাতে গর্জে ওঠে। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে তারা কাঁপিয়ে তোলে সীমান্তবর্তী জনপদ।


একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের পরাস্ত করে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাদের অনেকে। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে পঁচাত্তরেই দেশি বাহিনীর বুলেটের টার্গেটে পরিণত হন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। প্রতিরোধ যুদ্ধের মূল নেতৃত্বে থাকা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জানান, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত চলমান ওই প্রতিরোধ-সংগ্রামে শাহাদাতবরণ করেন ১০৪ জন বীর যোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে তার হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দ, গাইবান্ধার মুন্না, দুলাল দে বিপ্লব, বগুড়ার সারিয়াকান্দির আবদুল খালেক খসরু, সাখাওয়াত হোসেন মান্নান, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, আলী আজম আলমগীর, নজিবর রহমান নিহার, রেজাউল করিম, ফনেস সাংমা, অ্যালসিন মারাক, সুধীন মারাকরা অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের জীবন। প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেওয়া জাতীয় মুক্তিবাহিনী ’৭৫ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান যুগল হাশমী জানান, ৮৩ জন শহীদ প্রতিরোধ যোদ্ধার নাম তাদের কাছে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে পঁচাত্তরের প্রতিরোধ যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী ৯১ জন বীর যোদ্ধার নাম-ঠিকানা। প্রতিরোধ যুদ্ধে গুলিবিদ্ধসহ তিন শতাধিক আহতের তালিকা রয়েছে। গুলিবিদ্ধ শাহ মুস্তাইন বিল্লাহ, ফারুক আহমদ, মো. আবদুল্লাহ বীরপ্রতীক, গৌরাঙ্গ চন্দ্র পাল, ইসাহাক মারাক, মার্তুস সাংমা, অতুল সাংমা, জিতেন্দ্র ভৌমিক, সুকুমার চন্দ্র, শেখর হাগিদক, কমান্ডার আবদুল হক, কমান্ডার দুলাল চন্দ্র সাহা, সত্যেন চন্দ্র, প্রমোদ, অমল চন্দ্র, বাবুল হক, বিজন মৃ, বিজয় রিছিল, শেলেসটিন রুগা, সাধন পালদের খোঁজও নেয়নি কেউ। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক আটক ও পুশব্যাক হয়ে আসা অনেক যোদ্ধা-কমান্ডারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। যারা আহত অবস্থায় বেঁচে আছেন, তাদের জীবন কাটছে ধুঁকে ধুঁকে। কিন্তু এসব প্রতিরোধ যোদ্ধার বিষয়ে দলীয় বা সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদস্বরূপ সশস্ত্র সংগ্রামের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় কারাগারে বন্দী থাকতে হয় আরও অন্তত ৮১ জনকে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবাদী যুবকরা দলে দলে সমবেত হন ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড় ও দুর্গম বনাঞ্চলে। তাদের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ শুধুই প্রতীকী মেজাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা জেলা সীমান্তের বিশাল এলাকাজুড়ে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হন প্রতিরোধ যোদ্ধারা। সশস্ত্র আক্রমণের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী পাঁচটি বিডিআর ক্যাম্প ও দুটি থানা দখল করে তা নিজেরাই পরিচালনা করতে থাকেন তারা। সম্মুখযুদ্ধে তারা অবতীর্ণ হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও। যুদ্ধকালে শুধু দুর্গাপুর-কলমাকান্দা সীমান্তবর্তী জনপদে অন্তত নয়জন প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং পাঁচজন বিডিআর-পুলিশ সদস্য নিহত হন। ক্রসফায়ারে মারা যান তিন সাধারণ গ্রামবাসী। পাবনার নিশ্চিন্তপুরে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিরোধ যোদ্ধারা ওই চরে অবস্থান করছেন এমন খবর পেয়ে সেনাসদস্যরা হেলিকপ্টার ও জলপথ ঘিরে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু করে। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাল্টা প্রতিরোধে বেশ কিছু সেনাসদস্য নিহত হলে হেলিকপ্টার দল পিছু হটে। দুই দিনের এ তাণ্ডবে শহীদ হন প্রতিরোধ যুদ্ধের কমান্ডার বগুড়ার আবদুল খালেক খসরুসহ চারজন। এ সময় মৃতদেহ দাফন করা সম্ভব হয়নি বলে খসরুসহ শহীদ যোদ্ধাদের মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় যমুনার স্রোতে। এভাবে প্রায় ২২ মাস যুদ্ধ চালিয়ে প্রতিরোধ যোদ্ধারা টিকে থাকেন বীরত্বের সঙ্গে। একদিকে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সমর্থনের অভাব, অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের নিষ্ক্রিয়তায় প্রতিরোধ যুদ্ধ থেমে যায় অসমাপ্ত অবস্থায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিরোধ যুদ্ধ ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে স্থায়ী হয় ১৯৭৭ সালের জুলাই পর্যন্ত। তবে প্রতিরোধ যুদ্ধের সেক্টর হেডকোয়ার্টার ও সাব-সেক্টরগুলোয় অবস্থান নেওয়া যোদ্ধাদের শেষ দলটি অস্ত্র ত্যাগ করে ১৯৭৮ সালের এপ্রিল মাসে।
শহীদ হন যারা : বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সশস্ত্র আন্দোলনে জীবন দেন শতাধিক যোদ্ধা। তাদের ৯১ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন বগুড়ার আবদুুল খালেক খসরু ও নজিবুর রহমান নিহার, গাইবান্ধার ইবনে সাউদ, রেজাউল করিম, মিজানুল হক মুকুল, মোহাম্মদ আলী, আবদুর রাজ্জাক, আলী আযম আলমগীর, মো. বাবুল, মো. সোলায়মান ও আবদুর রহিম আজাদ, কুড়িগ্রামের রেজাউল করিম-২, নূরুল ইসলাম ও নূরুল আমিন, নেত্রকোনার আবদুল খালেক, রাধারমণ রায় ঝন্টু, বামুন সরকার, রজব আলী, আবুল কাশেম, হামিদুল ইসলাম, ফজর আলী, শান্তি বিকাশ সাহা পল্টু, আবদুল হেকিম, মুসলিম উদ্দিন তালুকদার ও সুব্রত, টাঙ্গাইলের সাখাওয়াত হোসেন মান্নান ও সৈয়দ নূরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দ আহমেদ, কুমিল্লার সুশীল ভৌমিক বেলু, সুনামগঞ্জের নিরানন্দ দাশ, মতিলাল দাশ, আখলমন মাঝি, বলরাম সরকার, শেরপুরের বিপ্লব কুমার দে দুলাল, দুলাল মিয়া, মনোরঞ্জন সরকার, হাবিবুর রহমান, বীরেন্দ্র চন্দ্র পাল, কছর আলী, আলী হোসেন, শওকত আলী, মোতালেব, ধীরেন্দ্র চন্দ্র শীল, রুস্তম আলী ও মোজাম্মেল হক, জামালপুরের নজরুল ইসলাম ও আলতাফুর রহমান, ময়মনসিংহের আবদুল হামিদ, আবদুল আজিজ, সুশীল চন্দ্র দত্ত, রঞ্জিত কুমার এস, মজিবুর রহমান খান, সুবোধ চন্দ্র ধর, আলকাস উদ্দিন সরকার, দ্বীপাল চন্দ্র দাশ, জোবেদ আলী ও সিরাজুল ইসলাম। শহীদদের ২৫ জন আদিবাসী। তারা হচ্ছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রঞ্জিত সাংমা, অনন্ত বর্মণ, জয়েশ্বর বর্মণ, সপ্রু সাংমা, কাশেম সাংমা, নিরঞ্জন সাংমা, পিটারসন সাংমা, প্রাণবল্লভ বর্মণ, প্রটিন দিও, শ্রীদাম রিছিল ও চিত্তরঞ্জন ডালু, শ্রীবর্দী উপজেলার সম্রাট সাংমা, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ফনেস সাংমা, তপন চাম্বুগং, অ্যালিসন মারাক, গোবিনিক মারাক, সুদর্শন মানকিন, হারু সাংমা, হযরত সাংমা, জবিনাশ তেলসী, অগাস্টিন চিছিম, সুধীন কুবি ও ডমিনিক চাম্বুগং, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার হেনরি সাংমা এবং ধোবাউড়া উপজেলার পংকজ আজিম।
কাদের সিদ্দিকী বলেন : পঁচাত্তরের প্রতিরোধ যুদ্ধ প্রসঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের পূর্ণাঙ্গ সমর্থনের অভাবে আমরা সফল হতে পারিনি। তবু চলতে থাকে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম। কিন্তু ভারতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ইন্দিরা গান্ধীকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন মোরারজি দেশাই। জিয়াউর রহমান তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে প্রতিরোধ-সংগ্রামীদের প্রতি দেশটির সমর্থন বন্ধের ব্যবস্থা করেন। শুধু তা-ই নয়, ওই সময় মোরারজি দেশাই সরকার অসংখ্য প্রতিরোধ-সংগ্রামীকে ধরে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। শুধু আমার প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত পঁচাত্তরে কয়েক হাজার প্রতিরোধ-সংগ্রামীকে করা হয় বঞ্চিত। বোধহয় আমার কারণে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ-সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের জন্য সংসদে শোক প্রস্তাব পর্যন্ত নেওয়া যায়নি।'


লেখক তালিকা