...মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে নতুনরূপে আসছে...

This is a Digital Library working with the 'collection, maintenance and public viewing' of the historical documents regarding the Liberation War of Bangladesh and Genocide of Innocent Bengali People in 1971. More than three million Bengalis were killed and half a million Bengali women were raped by Pakistan Military Forces, Biharis, Jamat-I-Islami, Islami Chatra Shangha (Now Islam-I-Chatra Shibir), Muslim League, Nezam-I-Islami Party, Razakars, Al-Shams, Al-Badr, Peace Committee, Muzahid Bahini during the nine months long Liberation War of Bangladesh in 1971.

This archive is absolutely NON-COMMERCIAL. All contents available here are for learning, study & research purpose only. Contents available here CANNOT be used for any kind of commercial purpose.

ফেসবুকে আমরা

নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিজীবী হত্যার চলমান অভিযান প্রতিরোধে ব্লগমাধ্যম ও লেখক - ব্লগারদের যৌথ বিবৃতি



আমরা, গভীর বেদনা ও উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে বাংলাদেশে মুক্তমনা, নাস্তিক লেখক, প্রকাশক, ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং ধর্মীয় ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যক্তিবর্গ ইসলামি জঙ্গিবাদের হাতে একের পর এক হত্যা ও আক্রমণের শিকার হলেও এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেবার পরিবর্তে নিহত ও আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের উপর দায় চাপানোর এক নতুন সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিক আইন দ্বারা সুরক্ষা লাভের অধিকারী এবং সবার মত প্রকাশের অধিকার থাকা সত্ত্বেও গত ১৪ এপ্রিল ২০১৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বলেছেন, কেউ ধর্মের সমালোচনামূলক লেখালেখির কারণে খুন হলে সরকার তার দায়িত্ব নেবে না। এই ঘোষণার দ্বারা নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব অস্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী সংবিধান এবং নাগরিকদের প্রতি তাঁর অঙ্গিকার থেকে স্পষ্টত সরে গেছেন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, অনলাইন এক্টিভিস্ট খুন হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, “সে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর লেখালেখি করত কী না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন... আগের যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে তাদের ব্লগ যদি দেখেন, এভাবে মানুষের ধর্মে আঘাত দেওয়া, বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া, পৃথিবীর কোনো দেশেই তা গ্রহণযোগ্য নয়”। ইসলামি জঙ্গীদের আক্রমণে সমকামী আন্দোলনের দু’জন কর্মী খুন হলে একই কায়দায় তিনি মন্তব্য করেন “আমাদের সমাজে সমকামিতা মানানসই নয়”। পুলিশের মহাপরিদর্শক জনাব এ কে এম শহীদুল হক গত ২৬ এপ্রিল ব্লগারদের নিরাপত্তা প্রদান এবং গুপ্ত ঘাতকচক্র দমনে তার বাহিনীর অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পুলিশ ঘরে ঘরে পাহারা দিতে পারবে না, নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরকেই নিতে হবে"। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানের এহেন বক্তব্য দায়িত্বহীন, অপেশাদারসুলভ এবং উদ্বেগজনক। এছাড়াও সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া স্বীকার করেছেন যে, তাদের নজরদারীতে থাকা লেখক অভিজিৎ রায় ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের কয়েকজন খুনী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে! পুলিশের নজরদারীতে থাকা খুনীদের দেশ ছেড়ে পালানোর ঘটনা থেকে যৌক্তিকভাবেই সন্দেহ হয় যে, ব্লগার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারে সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহের ইচ্ছা ও আগ্রহের অভাব রয়েছে। এছাড়া সরকার ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের এই ধরনের মন্তব্য ও বিবৃতি উগ্র সাম্প্রদায়িকতা এবং জঙ্গীবাদকে উস্কে দেয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখতে খুনিচক্রকে অধিক মাত্রায় উৎসাহিত করছে। অন্য দিকে ভিন্নমত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকারীকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ হিসেবে দেখিয়ে দায় থেকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে; অথচ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ইসলাম নিয়ে কথিত কটুক্তির অভিযোগ এনে জেলে ভরা হচ্ছে।

হেফাজতে ইসলাম এর আমীর আল্লামা আহমদ শফি যখন প্রকাশ্যে “নাস্তিকদের কতল করা ওয়াজিব হয়ে গেছে” বলে ফতোয়া দেন এবং সারাদেশে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, খুৎবায় নানাস্তরের জঙ্গীবাদী ইমাম, আলেম, খতিবরা নাস্তিকদের খুনের প্রকাশ্য ফতোয়া দিতে থাকেন, তখনও আমরা সরকারকে কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখি না। একই সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন পরিচয় দিয়ে ‘আওয়ামী ওলামালীগ’ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তারে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে। হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের যোগাযোগ এবং তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করার বিষয়টিও আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উপরন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ উগ্র মৌলবাদীদের সাথে দফায় দফায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী চুক্তি করছে এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে সাম্প্রদায়িকীকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগসহ ক্ষমতাসীন ১৪ দল তথা মহাজোট এবং তাদের সহযোগী সংগঠনসমূহ এসকল হত্যা-খুনের প্রতিকার প্রশ্নে নীরব থাকছে অথবা দলীয় ও জোট নেত্রীর দেখানো পথে আক্রান্তদেরই দোষারোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সংঘটিত হামলাগুলোর দায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা আনসার-আল ইসলাম (আল-কায়েদার ভারত উপমহাদেশীয়নেটওয়ার্কের বাংলাদেশ শাখা) এবং আইএস স্বীকার করলেও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ওস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আইএস, আল কায়দা প্রভৃতি জঙ্গী সংগঠনের উপস্থিতিকে অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে চলেছেন, যা মূলত সত্যকে আড়াল করে সরকারের উগ্র মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের সাথে সমঝোতা করে চলার কৌশল বলে আমরা মনে করি। অপরদিকে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় ২০ টি ইসলামপন্থী দলের সাথে রাজনৈতিক জোট গঠন করেছে, যাদের অধিকাংশই জঙ্গীবাদের মদদদাতা কিংবা সরাসরি যুক্ত। ফলে সরকারি কিংবা বিরোধীদল কোনো পক্ষ থেকেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে জঙ্গীবাদ মোকাবেলার কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

জঙ্গী গুপ্তঘাতকদের আক্রমণের পাশাপাশি সরকার লেখক, প্রকাশক, ব্লগার ও মুক্তচিন্তার মানুষদের গ্রেফতার ও হয়রানি করছে। ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬’(২০১৩ সালে সংশোধিত) এর ৫৭ ধারা প্রয়োগ করে লেখক ও ব্লগারদের মুখ বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ভয়াবহ হুমকীর মুখে পড়েছে। ২০১৩ সালে হেফাজত ইসলামের দাবির প্রেক্ষিতে ৪ জন ব্লগারকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত অপরাধে ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। হেফাজতকে সন্তুষ্ট করতেই ২০১৩ সালে ‘তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬’ এর সংশোধনী এনে সর্বোচ্চ সাজা বাড়িয়ে ১৪ বছর এবং সর্বনিম্ন সাজা ৭ বছর করা হয়। হেফাজতে ইসলাম ও ওলামা লীগের মতো উগ্র মৌলবাদীদের দাবির মুখে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি ২০১৫ সালে রোদেলা প্রকাশনী এবং ২০১৬ সালে ব-দ্বীপ প্রকাশনীকে বইমেলা থেকে নিষিদ্ধ করে। এছাড়া ২০১৬ সালে ব-দ্বীপ প্রকাশনীর প্রকাশককে ৫৭ ধারায় গ্রেফতারও করা হয়। বস্তুত ২০১৩ সাল থেকেই ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’আঘাতের এইরকম কথিত অভিযোগে ৫৭ ধারায় গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। স্কুলশিক্ষক, দর্জি, আদিবাসী, ছাত্র, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এরকম ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগের মাধ্যমে গ্রেফতারের ঘটনাও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। কেউ একবার এই অভিযোগে গ্রেফতার হলে, তিনি ধর্ম অবমাননাকারী হিসাবে চিহ্নিত হয়ে যান এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকী মাথায় নিয়ে জীবনযাপন করতে হয়। সর্বশেষ আক্রমণে এরকমই একজন, ৫৭ ধারায় মামলাপ্রাপ্ত হিন্দু দর্জি জঙ্গীদের চাপাতির আঘাতে খুন হন। এসব কালাকানুন এবং সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ক্রমাগত ‘সীমা লংঘন’ না করার হুমকি, বিপন্ন লেখক ও ব্লগারদের নিরাপত্তা সহায়তার জন্যে পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার সকল পথ বন্ধ করা হয়েছে। একদিকে জঙ্গীদের ভয়, অন্যদিকে ৫৭ ধারায় গ্রেফতারের ভয় - উভয় সংকটে পড়ে আজ মুক্তমনা লেখক, ব্লগার ও প্রকাশকদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক জীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত।

আমরা ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া বাংলাদেশের লেখক, ব্লগার, প্রকাশক ও এক্টিভিস্টদের লেখালেখির জন্য দায়ি করে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় হতে প্রদত্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি - তারা যেন ধর্ম, বিশ্বাস ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী তথা যাবতীয় ইসলামপন্থী ও জঙ্গীবাদী রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করার জন্য সরকার ও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই। ইসলামপন্থী ও জঙ্গীবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দেশের বৃহত্তম বিরোধীদল বিএনপি’র প্রতি আহ্বান জানাই। আমরা বিবদমান রাজনৈতিক শক্তিসমুহকে জঙ্গীবাদ দমনের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদে সামিল হওয়ার জন্য দেশের বুদ্ধিজীবি, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র, সংস্কৃতি কর্মীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই।


একই সাথে আমরা দাবি জানাচ্ছি-

১। বাংলাদেশে এ যাবৎ সংঘটিত লেখক, ব্লগার, অনলাইন একটিভিস্ট, ভিন্ন ধর্ম ও মতে বিশ্বাসী, সমকামী আন্দোলনের কর্মী এবং নাস্তিক- মুক্তমনাদের হত্যা ও হত্যাপ্রচেষ্টার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

২। দেশের সর্বস্তরের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার সকল দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। ধারাবাহিক আক্রমণের শিকার মুক্তমনা ও সেক্যুলার লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, ভিন্ন ধর্ম ও মত-পথে বিশ্বাসী, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। সরাসরি হুমকিপ্রাপ্ত লেখক, ব্লগার, শিক্ষক, আন্দোলনকর্মী, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সংখ্যালঘু সংগঠনের সাথে জড়িতদের জন্য জরুরি উদ্যোগে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩। সংবিধান বর্ণিত বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমানভাবে ধর্ম পালন ও প্রচারের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় ও অবিশ্বাসী- নাস্তিক- মুক্তমনাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। সংবিধানের ৮, ১২ ও ২৮ ধারার সাথে সাংঘর্ষিক ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’সম্বলিত ২(ক) ধারা বাতিল করতে হবে। সংবিধানের ৩৯ ধারার চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-ভাব প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬’ (২০১৩ সালে সংশোধিত) এর ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে।

৪। ফেসবুক-টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সেক্যুলার ব্লগারদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকী প্রদানকারী উগ্র মৌলবাদী ব্যক্তিবর্গকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অনলাইন, মুদ্রিত গণমাধ্যম এবং টিভি চ্যানেলে জঙ্গীবাদী প্রবণতা এবং লেখক- ব্লগার- শিক্ষক- সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি হুমকিমূলক উস্কানি প্রভৃতিকঠোরহস্তে দমন করতে হবে।

৫। জামায়াতে ইসলামী, ওলামালীগ ও হেফাজতে ইসলামসহ জঙ্গীবাদের সাথে যুক্ত সকল সাম্প্রদায়িক দল এবং ইসলামি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গীবাদী গোষ্ঠীর সকল ধরনের কর্মতৎপরতা প্রতিহত করতে সরকারকে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৬। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের লেখালেখির জন্য কিংবা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দোষারোপ বন্ধ করতে হবে। মুক্তমনা লেখক, প্রকাশক, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকসহ পেশাজীবি ব্যক্তিদের কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং ব-দ্বীপ প্রকাশনীর প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিকসহ গ্রেফতারকৃত সকল সেক্যুলার লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবি ব্যক্তিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

৭। কওমি মাদ্রাসাসমূহের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং মাদ্রাসার পাঠ্যসূচি থেকে সকল প্রকার সালাফি, ওহাবি ও মওদুদীবাদী মতাদর্শ বাতিল করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠন পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কিন্ডার গার্টেন স্কুল, কোচিং সেন্টার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে বিশেষ কোনও ধর্ম শিক্ষা দিয়ে গোড়ামী এবং ধর্মান্ধতা সৃষ্টির পরিবর্তে সকল ধর্মমত ও যুক্তিসিদ্ধ মতবাদসমূহ যুগপৎ শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। জঙ্গী উৎপাদনের সুযোগ বন্ধ করতে, প্রয়োজনে মাদ্রাসাসমূহ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন করতে হবে।

৮। জুম্মাহর খুৎবা ও ওয়াজ মাহফিলে উগ্র মৌলবাদী প্রচারণা, অন্য ধর্মালম্বীদের প্রতি বিষোদগার ও জঙ্গীবাদ সংগঠিত করার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। গণমাধ্যমে একক ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচার করে ধর্মান্ধতা সৃষ্টির পরিবর্তে মানুষকে নির্মোহভাবে সকল ধর্মমত জানার সুযোগ দিতে হবে। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, নাস্তিক্যবাদ, মানবতাবাদ, যুক্তিবাদ, দর্শন এবং বিজ্ঞানের উন্মুক্ত প্রচারণার সুযোগ দিতে হবে।

৯। যুদ্ধাপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে।


Joint statement by blogs & bloggers of Bangladesh against assassination of New Generation intellectuals

We have been observing with deep pain and concern that the government of Bangladesh has adopted a controversial stance at a time when secular writers, publishers, bloggers, online activists, atheists, free thinkers and people of different faiths from the cross section of people are being killed by Islamic militants one after another. A new culture of blaming the victims rather than taking legal and administrative steps against the killers has been introduced. Under the constitution, all citizens are equal before the law and are entitled to equal protection of the law. All citizens also have the right to expression of free opinion and none can be discriminated against due to his or her belief, cult or faith. But Prime Minister Sheikh Hasina on April 14 said that her government would not take the responsibility for individuals killed on account of their write ups. The Prime Minister has clearly deviated from her oath to preserve, protect and defend as defined by the constitution and to the people by denying the responsibility to provide security to all citizens. She has taken a biased stance over citizens' right to express opinion.

When Nazimuddin Samad, a student of Jagannath University, was killed on April 6, Home Minister Asaduzzaman Khan Kamal said that the write-ups of the slain secular activist needed to be scrutinized to see whether he wrote anything objectionable about religion. "Homosexuality does not go with our society," was the remark of the Home Minister after the killings of two LGBT activists on April 26. Inspector General of Police AKM Shahidul Haque has expressed his inability to ensure the security of bloggers by clamping down on secret killer groups. On April 26, he said, "Police cannot guard every house; you will have to arrange your own security." This kind of statement by the police chief is irresponsible, unprofessional and worrying. Moreover, the Commissioner of Dhaka Metropolitan Police Md Asaduzzaman Mia recently admitted that some under surveillance killers of writer Avijit Roy and Publisher Faisal Arefin Dipan had fled the country. The law enforcing agencies have appeared to be reluctant to arrest the killers and bring them to justice. Individuals holding responsible positions in the government are provoking people against the bloggers through expressing extremist communal views in society. Such remarks have been contributing to a rise in extremism and militancy. The killer gangs are thus being emboldened in committing their misdeeds. On the other hand, an evil attempt is under way to annihilate people of different opinions and faiths. Those attacking religious and other minorities are being saved through being dubbed as insane while people belonging to minority communities in different parts of the country are being arrested in a planned manner on allegations of having made remarks against Islam.

The government does not take any legal steps when religious leaders, including the chief of Hefazat-e-Islam Allama Ahmad Shafi, issue edicts calling for bloggers to be killed on the ground that "it has become a responsibility for Muslims to kill atheists." The Awami Ulama League, with its identity as a sister organization of the ruling Awami League, is working to advance communal politics. We have also noticed some high profile persons in the government assisting and maintaining close communication with the Hefazat-e-Islam, an orthodox Islamist group believed to be one of the main hubs of extremists and militants. The ruling Awami League has reached deals with extremist fundamentalists deviating from the secular spirit of the Liberation War. Such steps have been pushing the state and society to sheer communalism. Components of the ruling 14-party alliance as well as the grand alliance led by the Awami League are either keeping quiet on the question of justice for these killings or blaming victims as per directions of their alliance leader. Though the Ansarullah Bangla Team or Ansar-al-Islam, (the Al Quaida Affiliate in South Asia) or the ISIS has been claiming responsibility for the killings, the government remains adamant in its protestations that there is no presence of those groups in Bangladesh. We apprehend it as a policy of the government to deny facts and conduct the administration through compromising with religious extremism and militancy.

The main opposition party, the Bangladesh Nationalist Party (BNP), on the other hand has formed a political alliance with 20 Islamist parties, including the Jamaat-e-Islami, which have promoted or are directly involved with extremism. There is no initiative to resist extremism politically and culturally either by the government or by the opposition.

Besides ambush attacks by extremists, the government is harassing and arresting bloggers and freethinkers. The government has been trying to muzzle writers and bloggers by applying Section 57 of the Information and Communication Technology (ICT) Act -2006, a draconian law which was amended in 1973 to make it harsher. As a result press freedom and the right to free thinking and right to conscience are seriously in threat. Four bloggers were arrested under Section 57 of the ICT Act on allegations of hurting so called religious sentiments of Muslims in 2013 in the face of demands made by the Hefazat-e-Islam. Complying with the demand of the Hefazat, the ICT act was amended in 2013 empowering law enforcers to arrest any person without warrant and increase the highest punishment to 14 years from a minimum of 7 years.

The state run Bangla Academy banned Rodela Publishers in 2015 and Ba-Dwip Publishers in 2016 from its traditional book fair on the allegation of their publishing and displaying books propagating atheist ideas. The owner of Ba-Dwip Publishers, Shamsuzzoha Manik, was arrested under Section 57 of the ICT Act for publishing books critical of Islam. He has been languishing in prison since. Arrests of school teachers, students, tailors, indigenous and religious minorities under the said Section have been continuing on false and concocted allegations of hurting one's religious sentiments. If someone is arrested on the allegation of hurting religion, he becomes identified as an infidel in society and his/her life becomes risky. The latest victim of such legal action followed by machete killing on May 1 was a garment worker in Tangail.

Application of the draconian law against bloggers and writers along with warnings by officials "not to cross limits" have caused a shutting of the door for bloggers, who refuse to seek the assistance of the police. Thus the professional, financial, family and social lives and mentality of the writers, bloggers and freethinkers have been jeopardized.

We strongly condemn the statements made by the government functionaries who blamed write-ups of the slain writers, bloggers, publishers and activists for their killings. We call upon the government to take necessary steps to ensure the right of the people to freedom of expression. We call upon the government as well as ruling Awami League to clear their stance by severing ties with communal fundamentalist forces. We also call upon the BNP to untie from the Islamist and extremist political parties. We expect the conflicting political forces to stand in unison to fight extremism and militancy and save the nation. We call upon the intellectuals, writers, journalists, teachers, students, cultural activists and people from cross section of life to stand united against communalism, fundamentalism and militancy.

We at the same time demand of the government to

1. Arrest and bring the attackers and killers of writers, bloggers, online activists, atheists, freethinkers, LGBT activists and people of different religions and faiths to justice immediately. Those who are issuing death threats against secular bloggers on the social sites be identified and brought to book.

2. The government will have to take the responsibility to provide security to all the people. Effective measures have to be taken to ensure security of secular bloggers, writers, publishers, freethinkers and religious and ethnic minorities and people of different faiths and sects within or outside Islam, who are being targeted regularly. Special security arrangements will have to be made on an emergency basis for bloggers, activists, teachers, artists, cultural activists and minority leaders, who have been receiving death threats and have serious security concerns.

3. The constitutional right to freedom of thought, conscience, of speech and expression and of religion must be ensured. The constitutional right of every citizen to profess, practice or propagate any religion must be applicable for religious minorities, sects, non believers, atheists and freethinkers equally. The constitutional provision of Islam as State Religion, which is contradictory to Articles 8, 12 and 28 of the Constitution, must be revoked. Section 57 of the Information and Communication Technology Act 2006 (amended in 2013), which is contradictory to the fundamental rights to freedom of speech and expression and freedom of press as enshrined in Article 39, must be annulled.

4. The Islamic fanatics and extremists who are regularly issuing open death threats to secular bloggers on different social sites, including Facebook and Twitter, must be netted and brought to book. Threats and provocations against minorities, writers and teachers through online, print and electronic media must be dealt with iron hand.

5. All the religion based communal parties and outfits, including Jamaat-e-Islami, Awami Ulama League and Hefazat-e-Islam, must be banned. The government will have to undertake all-out measures to curb militancy. Use of religion in politics must be banned by law.

6. The government must stop blaming victims for their write-ups and activism. Arrested publisher and author Shamsuzzoha Manik and others, including bloggers, online activists and religious minorities, must be released unconditionally. Arrest and harassment of secular writers, publishers, bloggers, online activists and minority people must be stopped.

7. The State must establish its control over the Qaumi Madrasas and takeover educational and financial institutions run by the Jamaat-e-Islami and other fundamentalist groups. Salafi, Wahabi and Moududi Islamism must be removed from the curriculum of Madrasa students. Indoctrination of kids by imbibing a single faith must be stopped by giving them the chance to learn all the religions, interfaith, scientific and logical doctrines simultaneously. Special laws can be enacted to control madrasas to stop breeding of militants.

8. Opportunities to profess fanaticism, fundamentalism, provoking against other faiths, spreading communal venom and organize militancy through the sermons in the mosques, waz mahfil (religious lectures in rallies) and congregations will have to be stopped. The state and private sponsored television channels, community radios and online media should stop propagating Islamic extremism. The state run and private media should give people the chance to know all the religions and doctrines by giving an unbiased and equal opportunity publicizing all the faiths and logics rather than indoctrinating people by propagating only one religion. Interfaith, rationalism, atheism, humanism, feminism, philosophy and science should be allowed to be published and telecast by media.

9. War crimes trials will have to be expedited.


বিবৃতিদাতা ব্লগ ও ব্লগারদের তালিকা:
ব্লগসমূহ:
নবযুগ ব্লগ, ইস্টিশন ব্লগ, উইমেন চ্যাপ্টার, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্ট, চুতরাপাতা, ধর্মকারী, ইতুর ব্লগ, অগ্নিরথ প্রমুখ

লেখক, কবি, ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্ট:
(জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, ইংরেজি বানানের বর্ণনানুক্রমিকভাবে নাম সাজানো হয়েছে)
A.Z Hossain (এ,জেড হোসেন)
Abul Kashem (আবুল কাশেম)
Ahmedur Rashid Tutul (আহমেদুর রশীদ টুটুল )
Ajanta Deb Roy (অজান্তা দেব রায়)
Akash Malik (আকাশ মালিক)
Alamgir Hussain (আলমগীর হুসেন)
Allama Shoitan (আল্লামা শয়তান)
Ananya Azad (অনন্য আজাদ)
Anju Ferdousy (আঞ্জু ফেরদৌসী)
Arif Rahman (আরিফ রহমান)
Arifur Rahman (আরিফুর রহমান)
Arpita Roychoudhury (অর্পিতা রায়চৌধুরী)
Ashraful Alam (আশরাফুল আলম)
Asif Mohiuddin (আসিফ মহিউদ্দীন)
Bhajan Sarker (ভজন সরকার)
Bonya Ahmed (বন্যা আহমেদ)
Camelia (ক্যামেলিয়া)
Chorom Udash (চরম উদাস)
Daripalla Dhomadam (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
Daud Haider (দাউদ হায়দার)
Deepaboli Chowdhury (দীপাবলী চৌধুরী)
Dhrubo Tara (ধ্রুব তারা)
Ekush Tapader (একুশ তাপাদার)
Ettila Etu (ইত্তিলা ইতু)
Farzana Kabir Khan (ফারজানা কবীর খান)
Horus (হোরাস)
Iswar Kona (ঈশ্বর কণা)
Kazi Mamun (কাজী মামুন)
Khalid Hasan Alo (খালিদ হাসান আলো)
Mahbub Leelen (মাহবুব লীলেন)
Mahmudun Nabi (মাহমুদুন নবী)
Mahsina Khatun (মহসিনা খাতুন)
Maskwaith Ahsan (মাস্কাওয়াথ আহসান)
Md. Mumin Banda (মোঃ মুমিন বান্দা)
Milan Farabi (মিলন ফারাবী)
Mohiuddin Sharif (মহিউদ্দিন শরীফ)
Monika Muna (মণিকা মুনা)
Muhammad Golam Sarowar (মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার)
Nastiker Dharmakatha (নাস্তিকের ধর্মকথা)
Nur Nobi Dulal (নুর নবী দুলাল)
Omar Farooq Lux (ওমর ফারুক লুক্স)
Poruya (পড়ুয়া)
Prithu Sanyal (পৃথু স্যন্যাল)
Raihan Abir (রায়হান আবীর)
Rubina Khanam (রুবিনা খানম)
Sabbir Hossain (সাব্বির হোসাইন)
Saikat Barua (সৈকত বড়ুয়া)
Sannyasi Ratan (সন্যাসী রতন)
Sezan Mahmud (সেজান মাহমুদ)
Shahzahan Bachchu (শাহজাহান বাচ্চু)
Shamim Runa (শামীম রুনা)
Shamima Mitu (শামীমা মিতু)
Shammi Haque (শাম্মি হক)
Shantanu Adib (শান্তনু আদিব)
Shohiduzzaman Paplu (সহিদুজ্জামান পাপলু)
Shoikot Chawdhury (সৈকত চৌধুরী)
Shravan Akash (শ্রাবণ আকাশ)
Shubhajit Bhowmik (শুভজিৎ ভৌমিক)
Sobak (সবাক)
Subrata Shuva (সুব্রত শুভ)
Supriti Dhar (সুপ্রীতি ধর)
Susupto Pathok (সুষুপ্ত পাঠক)
Swapan Majhi (স্বপন মাঝি)
Syed Kamran Mirza (সৈয়দ কামরান মির্জা)
Syed Zamal (সৈয়দ জামাল)
Tahsib Hasan (তাহসিব হাসান)
Juliyas Caesar (জুলিয়াস সিজার)
Moon Taslima Sheikh (মুন তাসলিমা শেখ)


এছাড়াও যাঁরা পরবর্তীতে একাত্মতা প্রকাশ করবেন তাঁদের নাম নিচে সংযুক্ত করা হবে


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্ট