দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
সৈয়দ শামসুল হক
অন্যপ্রকাশ


বইয়ের ফ্ল্যাপে লিখা কথাঃ
নিদারুণ সংবাদ, নিদারুণ তো বটেই, কারণ এ তারই বৈধব্যের সংবাদ, এই সংবাদ পাওয়ার পরেও স্মিতমুখটি অবিকল একই প্রকার থেকে যাওয়ার রহস্য তাহেরের কাছে কোনোদিনই উন্মুক্ত হবে না এবং এটিও তার কাছে এক বিরাট রহস্য হয়ে থাকবে,যে, এই নারী তারই বিগতা স্ত্রীর সঙ্গে একটি নামে যুক্ত; সে নাম হাসনা। একদিন এক হাসনাকে ফিরে এসে ফাঁসির দড়িয়ে লম্বমান দেখতে পায়; একদিন এই হাসনাকে সে দেখতে পেল স্বামীর মৃত্যুসংবাদে স্মিতমুখে বসে থাকতে। ক্ষিপ্ত কণ্ঠে তাহের তাকে তিরস্কার করে ওঠে, সরাসরি তিরস্কার নয়, তিরস্কারের আকার যেন একটি ধুমকেতু, বড় দ্রুতবেগে তা লক্ষ্যবস্তুর দু’দিকে চিরে ধাবিত; বড় দীর্ঘ সেই ধুমকেতুর পুচ্ছ, তাহের জানায়, পরাণের কাছে সে শুনেছে, এবং পরাণ এইমাত্র ইস্টিশানের দোকান থেকে শুনে এসেছে, যে, হাফেজ মোক্তারের দলই মজহারকে খতম করেছে। হাসনা তবুও সেই তাকিয়ে থাকে স্মিতমুখে। আমরা তো কেবল উপরিতল দেখে থাকি, অন্তঃস্থল কখন ধারা বদলে যায়, রঙ বদলে যায়, গতি বদলে যায়, আমরা সে সংবাদ রাখি না। নারীর নাম ধরে, কিংবা তার বিগতা স্ত্রীরই নাম ধরে তাহের এখন চিৎকার করে ওঠে এবং সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করে -মৃতকে এখানে কেউ স্মরণ করে না; জীবিতকে এখানে কেউ সম্মান করে না। সমুখের এই নারী এখন তাহেরের উচ্চকণ্ঠের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে যেন ততধিক উচ্চকণ্ঠে হেসে ওঠে এবং জানায়, সে এই কথা জানায়, যে, বাহ, এই তবে স্বাধীনতা? এরই জন্যে স্বাধীনতা?