ভাষা আন্দোলন: সাহিত্যিক পটভূমি
হুমায়ুন আজাদ
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আগামী প্রকাশনী


বইটির বিষয়বস্তু চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছদ- পাকিস্তানবাদী সাহিত্যতত্ত্ব: প্রতিক্রিয়াশীলতার বিষবৃক্ষ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছদ- পাকিস্তানবাদ ও পাকিস্তানবাদ প্রত্যাখ্যান।
তৃতীয় পরিচ্ছদ- কথা সাহিত্য: দারিদ্র্য ও দুর্নীতির দলিল।
চতুর্থ পরিচ্ছদ- প্রবন্ধ: ব্যাপক প্রতিক্রিয়াশীলতা।

বায়ান্নর ভাষা-আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সুসংহত স্ফুরণ। বাঙলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলন ছিল মুখ্যত একটি জাতীয় সংগ্রাম। হুমায়ুন আজাদ তাঁর এ-গবেষণায় ১৯৪৭-১৯৫১ পর্বের বাংলাদেশের সাহিত্যের সামাজিক ও শৈল্পিক চারিত্র্যে অনুসন্ধান; এবং এর মাঝে ভাষা আন্দোলনের কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় কিনা, তা উদঘাটনে ছিলেন সচেষ্ট। এ-পর্বের পত্রপত্রিকা ও সাহিত্য জাতির চেতনাকে ধারণ করে নি; বরং প্রকাশ করেছে পাকিস্তানবাদী, প্রগতিবিরোধী আবেগ-উচ্ছ্বাস-চেতনা। তবে এ-পর্বেই উদ্ভূত হয় বাঙলা সাহিত্যের এমন একটি ধারা, যা পাকিস্তানবাদী ধারা থেকে ভিন্ন ও পাকিস্তানবাদ-বিরোধী। এটি খুবই ক্ষীণধারা। এ-ধারাটি পাকিস্তানবাদ প্রত্যাখ্যান করে বিকশিত হয়, সংযুক্ত থাকে ভাষা-আন্দোলনের সাথে; এবং এটিই হয়ে উঠে বাংলাদেশের সাহিত্যের প্রধান ধারা।

ড. আজাদ দেখিয়েছেন—কোনো অবকাঠামো এ-সাহিত্য সৃষ্টি করেছে, এ-সাহিত্যে রূপায়িত হয়েছে কোন সমাজ, ও প্রকাশ পেয়েছে কোন কামনাবাসনা।