সামরিক জীবনের স্মৃতি (১৯৬৪-১৯৮১)
চৌধুরী খালেকুজ্জামান
ইউপিএল


পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে যোগদান ১৯৬৪ সালে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অকালীন অবসর ১৯৮১ সালে, মাত্র ১৭ বছরের সামরিকজীবন। কিন্তু তার মাঝেই ঘটে গেছে বাঙালি জাতির জীবনের সেই অবিস্মরণীয় ঘটনা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

সে দিন অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তরুণ অফিসার চৌধুরী খালেকুজ্জামান অকুতোভয়ে শামিল হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে, দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য নিজের প্রাণকে তুচ্ছ করে এগিয়ে গিয়েছিলেন শত্র“দের বিরুদ্ধে। ২৫শে মার্চের রাতে মেজর জিয়াউর রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে অঙ্গীকার করেছিলেন শত্র“হননের, দেশকে দখলদার পাকিস্তানিদের হাত থেকে মুক্ত করার। সে অঙ্গীকার রক্ষা করেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণোৎসর্গের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে। সামরিক জীবনের স্মৃতি ১৯৬৪-১৯৮১ চৌধুরী খালেকুজ্জামানের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিত্রণ, তাঁর দেখা ও জানা ঘটনাবলির নিবিড় বর্ণনা। এ স্মৃতিকাহিনীতে প্রোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনা ও বিষয়, যা ইতিহাসের এক অনন্য দলিল। ব্যক্তির স্মৃতিকথার মধ্য দিয়ে এতে চিত্রিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বহু অজানা বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরের এমন অনেক ঘটনাও এতে বর্ণিত হয়েছে, যা পাঠকমাত্রকেই কৌতূহলী করে তুলবে। সামগ্রিকভাবে এই স্মৃতিকথা হয়ে উঠেছে সময়ের দলিল। এতে মূর্ত হয়ে উঠেছে দেশ, মানুষ এবং রাষ্ট্র নামক সংগঠনটির ওপর দিয়ে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী খালেকুজ্জামান (জ. ১৯৪৬) ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ও ১৯৬৬ সালে নিয়মিত কমিশন লাভ করে ৬ষ্ঠ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ চট্টগ্রামে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত থাকা অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপঅধিনায়ক, অ্যাডজুটেন্ট, কোয়াটার মাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একাধিক সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দেন এবং আহত হয়ে ভারতের আগরতলাস্থ জে. বি. হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ৩টি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত মিলিটারি ট্রেনিং ডাইরেক্টরিয়েটে জিএসও-১ এবং অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল ব্রাঞ্চে পরিচালক (ডিপিএ) হিসেবে নিয়োগ পান।
তিনি ১৯৭২ সালে লে. কর্নেল, ১৯৭৭ সালে কর্নেল ও ১৯৮১ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত হন। তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল সেনানিবাসে ৭৭তম পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক বাহিনী থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিতাড়ন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তাঁকে ১৯৮১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সামরিক বাহিনী থেকে অকালীন অবসর দেয়া হয়। অতঃপর তিনি বিভিন্ন বেসামরিক সরকারি চাকরি ও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৩ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।