একাত্তরের ঘাতকদের কেন বিচার চাই
আমান-উদ-দৌলা
বিদ্যাপ্রকাশ

পড়ুন

কেন আমরা বিচার চাই? রক্তাক্ত বিয়োগ বিধুর এই প্রশ্নের উত্তর এবং নারকীয় ঘটনাবলীর প্রমাণ ও সাক্ষী বাংলার ঘরে ঘরে এখনও জাজ্বল্যমান। ভাই হারিয়েছে বোনকে, মা হারিয়েছে ছেলেকে। স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে, কন্যা হারিয়েছে পিতাকে। যে ঘাতক-দালালদের সহযোগিতায়, যোগ সাজশে মানব ইতিহাসের নিকৃষ্টতম এই হত্যাযজ্ঞ করতে পেরেছে পাক হানাদার বাহিনী, সেই জামাত শিবির আবারও একই কায়দায় মাথা তুলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত করছে। তাদের বিচার না কররে পারলে আমরা নিজেরাই ভবিষ্যৎ বংশধরদের কাছে নৈতিকভাবে অপরাধী হয়ে পড়ব।
কেন আমরা বিচার চাই? একটি অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বহাল রেখে একটি জাতির গণতান্ত্রিক অর্থনৈতিক মুক্তির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা কখনোই সম্ভব নয়। ঘরের মধ্যে সাপ এবং মানুষ একসঙ্গে বাস করতে পারে না। এই অবস্থা জেনে শুনে কেউ যদি শান্তিতে ঘুমানোর উপদেশ দেয়, তাকে মূর্খ অর্বাচীন বলা যাবে না। সে আসলে ধূর্ত শয়তান, শান্তি প্রিয় মানুষেরই সে বিনাশ চায়।
এই গ্রন্থে কেন বিচার চাই শুধু সে প্রসঙ্গ নয়। কিভাবে সংবিধান সম্মতভাবে, বিদ্যমান আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব, তার সহজ সরল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতির দায় দায়িত্বের দৃষ্টিতে আমাদের দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যে ন্যায়সঙ্গত অধিকার এবং অবশ্য কর্তব্য তারও প্রামাণ্য বিবরণ আছে এই বইতে।