যুদ্ধশিশু ‘৭১
মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ সংকলন


একাত্তরে পাকিস্তানিদের সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের তুলনা মধ্যযুগ-উত্তর ইতিহাসে পাওয়া ভার। পাকিস্তানিরা মুক্তিযুদ্ধে প্রায় পাঁচ লক্ষ বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করেছিল। ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী হওয়া নারীদের অধিকাংশ গর্ভপাতের আশ্রয় গ্রহণ করেন।

যুদ্ধশিশুরা জন্মগ্রহণ করে ১৯৭১-এর অক্টোবর থেকে ১৯৭২-এর সেপ্টেম্বর সময়ে। যুদ্ধশিশুদের সংখ্যা সর্বনিম্ন ১০ হাজার হতে পারে। নির্যাতিত মায়ের বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থা, সামাজিক ভয় ও লজ্জা এবং ধর্ষক পাকিস্তানিদের প্রতি তীব্র ঘৃণা হতে অনেক বীরাঙ্গনা জন্মের পর এই যুদ্ধশিশুদের গ্রহণ করতে পারেননি।

এই শিশুদের স্থান হয় মাতৃসদনে, অনাথ আশ্রম ও সেবাকেন্দ্রে, বিশেষতঃ ঢাকার ইসলামপুরে মিশনারিজ অব চ্যারেটিজ-এর মাদার তেরেসা যুদ্ধশিশু ক্যাম্পে। পরবর্তীতে এই শিশুদের একটি বড় অংশকে ইউরোপ-আমেরিকা-কানাডায় দত্তক হিসেবে নেয়া হয়।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক একাত্তরে ধর্ষণের শিকার নারী ও যুদ্ধশিশুদের জাতির 'শ্রেষ্ঠসন্তান' বলে আখ্যায়িত করেন এবং তাদের যথাযথ সম্মান ও পুনর্বাসনের কথা বলেন।

যুদ্ধশিশুরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ, আমাদের বিজয় শিশু, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।

ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ের উদ্দেশ্যে যুদ্ধশিশুদের নিয়ে জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত কলামগুলো নিয়ে এই ই-সংকলন।

- সাব্বির হোসাইন, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ।