দ্য ট্যাংক ব্যাটল অব শিরোমণি
গাজী সাইফুল হাসান
কামরুল বুক হাউস

পড়ুন 


বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষের দিকে এসে খুলনার শিরোমণিতে মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহায়তায় একেবারে চেপে ধরে বিগ্রেডিয়ার হায়াত খানের কমান্ডে থাকা প্রায় চারহাজার হানাদারকে। ১২ই ডিসেম্বর রাত থেকে হানাদারদের অবস্থানকে লক্ষ্য করে টানা দুদিন প্লেন থেকে বোমাহামলা চালায় মিত্রবাহিনী। ১৪ই ডিসেম্বরে শত্রু শিবিরের দুদিনের কবরের নিস্তব্ধতায় অস্থির হয়ে, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের হাজার মানা সত্ত্বেও ২৮টি সাজোয়া যান নিয়ে এই যুদ্ধটা পুরোপুরি শেষ করার জন্যে রওনা দেন মিত্রবাহিনীর মেজর মাহেন্দ্র সিং আর বাংলাদেশের মেজর গণি। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের আংশকাকে সত্যি করে অ্যামবুশের শিকার হন তারা। মাত্র দুটি গাড়ি ফেরত আসতে পারে সেই মৃত্যুফাঁদ থেকে। শহীদ হন মেজর গণি। এই অপূরণীয় ক্ষতির আঘাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মেজর মঞ্জুরের কমান্ডে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা আর মিত্রবাহিনী। ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পনের জন্যে আকাশ থেকে লিফলেট ফেলা হয়। কিন্তু ব্রিগেডিয়ার হায়াত খান, তার ট্যাংক বহরের আত্মবিশ্বাসেই কিনা জানিনা, তাতে রাজি হয় নাই।
১৬ই ডিসেম্বর রাতে মেজর মঞ্জুর সেনাবাহিনী, মুক্তিযোদ্ধা আর ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গড়া যৌথবাহিনীর কমান্ড নিজ কাঁধে নেন। মিত্রবাহিনীর গুটিকয়েক ট্যাংক সামনে রাখেন আর তারও সামনে নিজের সাথে মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত এমন ১২ জন কমান্ডোর ডেথ স্কোয়াডকে নিয়ে হারিয়ে যান এনিমি লাইনের পিছনে। তারপর? তারপরের ঘটনাগুলো জানা যাবে গাজী সাইফুল হাসানের লেখা "দ্য ট্যাংক ব্যাটল অব শিরোমণি" গ্রন্থে। এই যুদ্ধের ইতিহাস, কলাকৌশল, ফলাফল ইত্যাদি বিষয়গুলো তিনি সামনে তুলে এনেছেন তৎকালীন সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধাদের মতন মানুষদের উপযুক্ত রেফারেন্স সহকারে।
- মিয়া মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামান